চলতি মাসের শেষদিকে সারাদেশে পুনরায় হামের টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, হাম রোগ দমনে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে পুনরায় টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে। মূলত হামের টিকা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া সম্ভব হয় না। গত ২০ এপ্রিল যখন দেশে হামের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, তখন যেসব শিশুর বয়স পাঁচ মাসের নিচে ছিল, তারা সেই সময় টিকা পাওয়ার যোগ্য ছিল না।
পরবর্তীতে ওই শিশুরা ছয় মাস বয়স অতিক্রম করলেও নিয়মিত ক্যাম্পেইন না থাকায় তারা টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। এই শিশুদের টিকার আওতায় আনতেই পুনরায় ক্যাম্পেইন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব, সঠিক তথ্যের অনুপস্থিতি, অভিভাবকদের কর্মব্যস্ততা কিংবা শিশুদের স্কুল থাকার কারণে অনেকে নির্ধারিত সময়ে টিকা কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
এই শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, একটি অসাধু চক্র রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই দালাল চক্রকে নির্মূল করতে র্যাব ও ডিজিএফআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। অনেক হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে দালালদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনিয়ম পাওয়া গেলে ক্লিনিক সিলগালা করা এবং জরিমানা করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব ক্লিনিকে ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান বা অযোগ্য ব্যক্তি দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।
এই সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে রোগীদের সেবা প্রদান করছেন। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। সিলেটের হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা, বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
পূর্ত বিভাগকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনকালে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
