চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ৯ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরও ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও ভর্তি করা হয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে নয়াগোলা এলাকার যহুরুল ইসলামের মেয়ে জয়নব, হারুনুর রশিদের মেয়ে সিনথিয়া, সুমনের মেয়ে সুমাইয়া এবং মোজাম্মেলের মেয়ে মাহমুদাসহ মোট ১৫ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে এনজিও গাকের পক্ষ থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সেদ্ধ ডিম খেতে দেওয়া হয়। এই খাবার খাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী এদিনও শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার দেওয়া হয়েছিল। খাবার খাওয়ার পর বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও জানান, খাবার খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা কেন অসুস্থ হয়ে পড়ল, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ১০ জন শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, সরবরাহকৃত খাবার নিম্নমানের বা অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এনজিওর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাবার বিতরণের প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও এই ঘটনায় কর্মসূচির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহ ও মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
