চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার শাহসুফি মাজার গেট বটতল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া দক্ষিণ আমিরাবাদের ২৩ বছর বয়সী তোফায়েল মুরছালীন। তিনি বেগম ওসমান আরা কলেজ অব নার্সিংয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্য একজন নিহত হলেন চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর কাঞ্চননগর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ বছর বয়সী আব্দুল গফুর, যিনি মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
এই সংঘর্ষে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ চরপাড়ার ২৪ বছর বয়সী সানজিদা আক্তার সুমাইয়া, চন্দনাইশের হাশিমপুর ইউনিয়নের ভাইখলিফা পাড়ার ৪০ বছর বয়সী মো. আরিফ ইসলাম এবং দক্ষিণ হারলা এলাকার ২০ বছর বয়সী মো. সায়মন হোসেন খায়ের রয়েছেন। সায়মন হোসেন খায়ের এই দুর্ঘটনায় কবলিত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির চালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিশা প্লাটিনামা পরিবহনের চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী একটি এসি বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অনটেস্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশার চালকসহ মোট পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোফায়েল মুরছালীনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আব্দুল গফুর মৃত্যুবরণ করেন।
বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. এটিএম মনিরুল কবির জানান, এই দুর্ঘটনায় একজন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং গুরুতর আহত চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন যে, বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকিকশার এই মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে গেছে এবং বাসের চালক সোলাইমান বাদশাকে গ্রেপ্তার করেছে। উপপরিদর্শক আবদুস সাত্তার আরও জানান, এই ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনাটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি ব্যস্ত এলাকায় ঘটেছে, যা মূলত পর্যটকদের এবং স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটি যাত্রীবাহী ছিল এবং বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশার চালকসহ আরোহীরা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পুলিশ এবং স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করা হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত দুজন ব্যক্তির জীবনহানি হয়েছে।
