চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মায়ের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে মতলব উত্তর থানার পূর্ব পাশে সুরুজ প্লাজার সামনে পাকা সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বেপারী বাড়ির কাউসার বেপারীর মেয়ে।
তার মায়ের নাম ফারজানা আক্তার। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শিশু ফারিয়া তার মায়ের হাত ধরে ছেংগারচর বাজারে অবস্থিত সুরুজ প্লাজার সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহত শিশুর মা ফারজানা আক্তার জানান, তার মেয়ে তার হাত ধরেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। চোখের সামনেই ট্রলিটি এসে তার মেয়েকে ধাক্কা দেয় এবং সে মাটিতে পড়ে যায়। তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই ট্রলির চালক পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে শনাক্ত করার পাশাপাশি আটকের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও জনবহুল রাস্তায় এসব যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণহীন থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ট্রলিটির মালিকানা ও চালকের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আইন অনুযায়ী দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ ট্রলির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। শিশু ফারিয়ার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা দোষী চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং চালককে আটকের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
