চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই হামলায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহিম ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
হামলার সময় পুলিশের সরকারি গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াকিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও বিস্ফোরক আইনসহ অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে অপহরণ করে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায়।
ঘটনার দিন ভোররাতে পুলিশ যখন ওয়াকিল হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করে তার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, কাঁচের বোতল এবং ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তিন থেকে চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওয়াকিল হোসেন তার বাসার ভেতরে থাকা একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যান। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ওয়াকিল হোসেন মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল ওয়্যারলেস এলাকার বিভিন্ন গলি ও ওয়াকিল হোসেনের বাসভবনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পুলিশ ওই গোপন সুড়ঙ্গপথ ও পালানোর পথের সন্ধান পায়। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, কলেজশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলার পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট ও অন্যান্য অপরাধের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ওয়াকিল হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত ৮ জুন শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে। পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
ওই মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে আসছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
