চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রায় ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত মামলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭২ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় আটজন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলার পরোয়ানামূলে ৯৯ জনকে এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে মোট ১৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ১৫৮ জনের মধ্যে ৫২ জন মাদক কারবারি, একজন মাদক বহনকারী এবং ১০৫ জন মাদকসেবী রয়েছেন। মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৬ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের তালিকায় রয়েছে ৭৯ হাজার ৮৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ১৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৫২১ লিটার ২৫০ মিলিলিটার মদ। এছাড়া সাত বোতল বিয়ার এবং ৬৮ পিস ট্যাপেন্টাডাল ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিতভাবে এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে আসছে। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ এবং গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা থেকে এই অভিযানের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদকসেবী এবং কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ইয়াবার আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়মিতভাবে উদ্ধার হচ্ছে। গাঁজা এবং দেশি-বিদেশি মদের পাশাপাশি ট্যাপেন্টাডাল ট্যাবলেটের মতো নেশাজাতীয় ওষুধও উদ্ধার করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে এই ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে পুলিশ মনে করছে। অভিযান চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা তৎপর ছিলেন।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যগুলো বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য এগুলো আলামত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
