চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার বিক্রির দায়ে দুটি হোটেলকে মোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা। অভিযানে অনিয়মের দায়ে মেহেদীবাগ রোডের তামিম রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ঝাল বিতানকে ২৫ হাজার টাকা এবং ক্যাফে মদিনা অ্যান্ড বিরায়ানি হাউজকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, তামিম রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ঝাল বিতানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে বাসি রুটি ও পরোটা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং খাবারে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, ক্যাফে মদিনা অ্যান্ড বিরায়ানি হাউজেও একই ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযানে আদালতকে সহায়তা করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ খাদ্য বিক্রি বন্ধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযানে জব্দ করা বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। হোটেল মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করেন। জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করবে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আইন অমান্য করে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি অব্যাহত রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। নগরীর প্রতিটি এলাকায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
