চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৯টার দিকে উত্তর আগ্রাবাদের রমনা আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৫৫ বছর বয়সী সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে স্বাভাবিক ছিলেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত তিনি দপ্তরে সহকর্মীদের সাথে একটি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় তাকে বেশ স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। দুই বছর আগে তিনি যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাইদুর রহমানের স্ত্রী তাদের নাতিকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে সাইদুর রহমান তার স্ত্রীকে দ্রুত বাসায় ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। স্ত্রী চিকিৎসকের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় পান। পরে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন এবং ভেতরে সাইদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে। সাইদুর রহমানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি তিন কন্যার জনক ছিলেন।
তার বড় মেয়ে একজন প্রকৌশলী এবং ছোট মেয়ে এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়নরত। বড় ও ছোট মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। তার মেজো মেয়ে পেশায় একজন চিকিৎসক এবং তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছেন। সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সময় তিনি কেন এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছে এবং ঘটনার দিন তার শেষ সময়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুতে তার সহকর্মীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন এবং সহকর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। ঘটনার দিন বিকেলে সভা শেষ করার পর তিনি সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরেছিলেন। এরপরই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা সব দিক খতিয়ে দেখছে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
