চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আজ বুধবার হালিশহর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদ, মো. মোস্তাফিজ ও বাবুল। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাঁচ ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
তাঁরা বাসার বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করলে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পুত্রবধূরা সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, ওই বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এরপর তাঁরা ওই তিন নারীর মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাসাটি নিজের বলে দাবি করলেও আসামিরা চাঁদা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাসার ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় আসামিরা প্রতিবেশীদের সঙ্গেও অশালীন ও হুমকিমূলক আচরণ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান।
খবর পেয়ে হালিশহর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচজন ব্যক্তিই পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিন নামের দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকি তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন মণ্ডল জানান, আসামিরা প্রথমে পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন মামলার আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ঘটনার সময় ওই নারীর স্বামী ও দুই ছেলে কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন।
বাসায় নারীদের একা পেয়ে আসামিরা এই সুযোগ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শ্যামলী আবাসিক এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের এমন আচরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জব্দ করা মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
