চট্টগ্রামের রাউজানে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ট্রাকের চাপায় নুরুল ইসলাম টিটু নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের জলিলনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জলিলনগর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ট্রাক নুরুল ইসলাম টিটুকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা জলিলনগর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
তারা সড়কে নৈরাজ্য এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভের কারণে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত জলিলনগর মোড়ের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের দুই প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে রাউজান থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষদের শান্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত একটি পথ এবং এখানে প্রায়ই বড় ধরনের যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ট্রাক চালককে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জলিলনগর মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত গতিরোধক বা ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। নুরুল ইসলাম টিটুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হলে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জলিলনগর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
