চট্টগ্রামের বিদ্যমান খাল ও জলপথগুলোকে পণ্য পরিবহনের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া নগরীর পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের খাল ও জলপথের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হলে তা নগরীর সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, দেশটিতে একসময় খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যেত। পরবর্তীতে সেগুলো পরিষ্কার করে পানি পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে নৌযানের মাধ্যমে মানুষ ও পণ্য পরিবহন করা হয়।
চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুধু বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নয়, পানি নিষ্কাশন এবং জলপথগুলো কীভাবে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে পানির সংকট জনগণের জন্য একটি বড় দুর্ভোগের কারণ। বিশেষ করে যে দুটি এলাকা নিয়ে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেখানে পানির তীব্র সংকট রয়েছে। জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে সরকার একা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারবে না।
তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মডেলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগে সরকারের পক্ষ থেকে সব কাজ করা হলেও এখন পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পিপিপি মডেল প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই মডেলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন এনজিও যৌথভাবে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করবে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও পরে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। পিপিপি মডেলে পুরো বিষয়টি একটি প্যাকেজের আওতায় থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে। তিনি জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি বর্ষায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উদ্ভাবনী পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ানা ভ্যান ডার লিন্ডেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন চট্টগ্রামের পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
