ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান রাজশাহী মহানগর পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন জনৈক কামরুজ্জামানকে পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন।
এই প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তিনি ২০১৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে রোকনুজ্জামান ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা ফেরত দেন।
এই ঘটনায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, তিনি অনুমতি না নিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে গেছেন। তার এই অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় পিএসসির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে পলায়নের তারিখ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানো এবং ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তার অনুপস্থিতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সরকারি আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হওয়ায় গুরুদণ্ড হিসেবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
