ধুলাবালি, দূষণ, রোদ ও অনিয়মিত জীবনযাপনের প্রভাবে বর্তমান সময়ে মানুষের ত্বক দ্রুত তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। দিনের শেষে মুখমণ্ডল অনেক সময় শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ দেখায়। ত্বকের এই স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দামি প্রসাধনী ব্যবহার না করেও রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যেতে পারে একটি কার্যকর হাইড্রেটিং নাইট জেল।
এই জেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। এই জেল তৈরির পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং এটি বাড়িতেই প্রস্তুত করা সম্ভব। প্রথমে এক মুঠ চাল এবং চার থেকে পাঁচটি লবঙ্গ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর এগুলোকে এক কাপ পানিতে প্রায় ৪৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে।
নির্দিষ্ট সময় পর চাল ও লবঙ্গ ছেঁকে শুধু তরল অংশটি আলাদা করে নিতে হবে। এই তরল মিশ্রণের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। যদি কারো ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়, তবে এই মিশ্রণে এক চা চামচ গোলাপ জল এবং এক চা চামচ মধু যোগ করা যেতে পারে।
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে একটি পরিষ্কার বায়ুরোধী পাত্রে জেলটি সংরক্ষণ করতে হবে। যেহেতু এই জেলটি ঘরে তৈরি এবং এতে কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় না, তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে পরিষ্কার হাতে ব্যবহার করা শ্রেয়। যদি জেলের রঙ, গন্ধ বা গঠনে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তবে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া ত্বকে কোনো ধরনের জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব বা চুলকানি দেখা দিলে দ্রুত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহারের নিয়ম হলো, রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে মুছে নিতে হবে। এরপর চোখ ও ঠোঁটের চারপাশ এড়িয়ে মুখ ও ঘাড়ে জেলের একটি পাতলা প্রলেপ লাগাতে হবে।
সারারাত এটি মুখে রেখে দিয়ে পরদিন সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই জেলের প্রধান উপাদান অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্রতার অনুভূতি দেয় এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। রাতে মুখ পরিষ্কার করার পর অ্যালোভেরা-ভিত্তিক জেল ব্যবহার করলে ত্বক আরামদায়ক ও কোমল অনুভূত হয়। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকে যে টানটান ভাব বা খসখসে অস্বস্তি থাকে, তা দূর করতে এই মিশ্রণে থাকা মধু কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে সতেজ ও নরম করে তোলে। এছাড়া চালের পানি ঘরোয়া রূপচর্চায় দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চালের পানিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, যার ফলে সকালে মুখ ফ্রেশ ও প্রাণবন্ত দেখায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
জেলের আরেকটি উপাদান লবঙ্গে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা ত্বকের বাড়তি যত্নে কাজ করে। তবে লবঙ্গের উপাদান কিছু মানুষের ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালা তৈরি করতে পারে। তাই সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের আগে কানের পাশে বা হাতে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
সঠিক নিয়ম মেনে এই ঘরোয়া জেল ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর করা সম্ভব।
