গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছর দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া এই তিনজনের মৃত্যুকে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮৭ জনে। এছাড়া ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ জনই রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাব বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এই নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট সন্দেহভাজন হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনে। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে আরও ৮০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫২৭ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।
অর্থাৎ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে প্রতিদিন যে হারে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারিভাবে হাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও সংক্রমণের হার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য হালনাগাদ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮৬ জনে পৌঁছানোয় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। হামের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকা গ্রহণই প্রধান উপায় বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে।
হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে হামের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আক্রান্তদের সঠিক পরিসংখ্যান এবং মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হামের বিস্তার রোধে এবং আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি বজায় রেখেছে।
