গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সভায় দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকের পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের রায় নিয়ে সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াত আমির সভায় উল্লেখ করেন যে, গণভোটে জনগণ যে রায় প্রদান করেছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো গড়িমসি বা ব্যর্থতা দেখা দিলে তা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে অস্থিরতা ও নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে। সভায় উপস্থিত ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
তারা পরামর্শ দেন যে, যারা গণভোটের রায় নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন, তাদের অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। তাদের মতে, সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে তারা জনগণের রায় মেনে নিতে প্রস্তুত কি না। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, সন্ত্রাস এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণের বিষয়টি উঠে এসেছে। জামায়াত আমির সভায় উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অপরিসীম। তিনি গণমাধ্যমকে জনমত গঠন ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো গঠনমূলক সমালোচনা বা পরামর্শ থাকলে তা খোলামেলাভাবে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। বৈঠকে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা তাদের খাতের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরতদের বেতন কাঠামো, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন জামায়াত আমির। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার আদায়ে জামায়াত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সভায় উপস্থিত গণমাধ্যম নির্বাহীরা বর্তমান সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা জামায়াতের কার্যক্রমকে গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান এ সময় বলেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থে সরকারের সব ভালো কাজে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলটি সবসময় কঠোর অবস্থান নেবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতের এই অবস্থান হবে অহিংস, গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল। ভবিষ্যতে রাজপথের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিও অহিংস রাখার নীতিতে দল অবিচল থাকবে বলে তিনি জানান।
সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং প্রধান বার্তা সম্পাদকরা এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
