গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে সিফাত আবদুল্লাহ নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাছা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। শুক্রবার সকালে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সিফাতের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া সিফাত আবদুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সিকান্দরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করে আসছিলেন।
সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বিষয়টি গাছা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সিফাতের ফেসবুক আইডিতে থাকা এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাঁকে বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাসায় গত মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং চলতি মাসে চার হাজার টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এই ভিডিওটিসহ বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সিফাতকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে গাছা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
রাত দুইটা পর্যন্ত তাঁরা থানার সামনে অবস্থান করেন এবং পরে সেখান থেকে চলে যান। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান দাবি করেছেন, সিফাত এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক। তিনি আরও দাবি করেন, সিফাত বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেন এবং জুলাই আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন।
আলী নাছের খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে সিফাতের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি সিফাতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অহেতুক বলে অভিহিত করেছেন। এনসিপির নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সিফাত সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, সিদ্ধান্ত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও বিদ্যুৎ বিলের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করতেন।
তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিফাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। বর্তমানে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বা কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে এই গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
