গাইবান্ধায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালক এবং এক কলেজ হিসাবরক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। প্রথম দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাসচালকের নাম মো. মাসুদ রানা। তার বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসগড়া গ্রামের মো. ফয়জার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের সাঁকো ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাইবান্ধা থেকে যাত্রী নিয়ে আল হামরা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসচালক মাসুদ রানা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই সংঘর্ষে বাসের পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই দিন সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বাসের ধাক্কায় গোলাম রব্বানী নামে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
তিনি সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাটের বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সাদুল্লাপুর-মাদারগঞ্জ সড়কের পশ্চিমপাড়া আসমা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতের সহকর্মী প্রভাষক মাহমুদুল হক মিলন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোলাম রব্বানী তার সন্তানকে জেলা শহরের পশ্চিমপাড়ার আশ শিফা মাদরাসায় রেখে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি বাসের চাকার নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক আবু তাহের জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা দুটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নিয়মিত যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোর গতিবিধি এবং চালকদের অসতর্কতা প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে স্থানীয়রা মনে করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হলেও দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে না। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গাইবান্ধা জেলা জুড়ে এই দুটি পৃথক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
