গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আবারও গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগের প্রভাবে আক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত অন্তত পাঁচজন ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন খায়রুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম, আজগর আলী, আবুল হোসেন এবং নাজমুল হক। তবে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় খামারি ও পশু মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ও কার্যকর নজরদারির অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেলকা ইউনিয়নের খামারি শামীম সরকার জানান, অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে প্রাণিসম্পদ দপ্তর সাময়িক তৎপরতা দেখালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তাদের আর কোনো খোঁজ থাকে না।
নিয়মিত টিকাদান ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে দপ্তরের গাফিলতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সংক্রমণের শিকার জাহেদুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কেউ তাদের খোঁজ নেননি। তবে পশু হাসপাতালের কর্মীরা এলাকায় এসে গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, তিনি চৌকিদারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। সরকারিভাবে কোনো মনিটরিং না থাকায় রোগটি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পৌরসভার কসাই নয়া মিয়া জানান, পৌর এলাকায় গরু জবাইয়ের আগে পরীক্ষা করা হলেও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, গত ২৫ আগস্ট অসুস্থ গরু জবাইয়ের খবর তারা ৩১ আগস্ট জানতে পারেন।
এরপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংসের কোনো নমুনা পাননি। আক্রান্তদের বাড়িতে কোনো মাংস সংরক্ষিত আছে কি না, তাও তারা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আতিয়ার রহমান সোহাগ জানান, আক্রান্তদের শারীরিক লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই করার কোনো সুযোগ নেই এবং এটি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের। ভবিষ্যতে পরীক্ষা ছাড়া যেন কোনো গরু জবাই না হয়, সে বিষয়ে কসাইদের নিয়ে সভা করে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গবাদিপশুর মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়েছিলেন এবং ওই বছরের ৫ অক্টোবর রোজিনা বেগম নামে এক নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া একই সময়ে কিশামত সদর গ্রামে ১১ জন এবং পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
