খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় এবং রাতে পৃথক দুটি ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ২২ বছর বয়সী মঞ্জুরুল ইসলাম এবং ১৯ বছর বয়সী নাজমুল। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুরুল ইসলাম ওই এলাকার খোকনের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কারো সাথে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যায় এলাকায় অবস্থান করার সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মঞ্জুরুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত পৌনে ১০টার দিকে একই এলাকার শিশুবাগান আশিবিঘা এলাকায় দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল ওই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দুর্বৃত্তরা নাজমুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে জোরালো অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধের জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তবে এটিই একমাত্র কারণ কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও পুলিশ তাদের সাথে কথা বলছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম ও নাজমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
