কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫ কেজি গাঁজা ও ১৬ বোতল স্কাপসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩, রংপুর। শুক্রবার রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, রংপুরের একটি আভিযানিক দল কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর এলাকার জাহিদুর রহমান ওরফে আঙ্গুরের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
মাদকদ্রব্য বিক্রির প্রস্তুতিকালে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২৫ কেজি গাঁজা, ১৬ বোতল স্কাপ, মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজন হলেন জাহিদুর রহমান ওরফে আঙ্গুর (২৮), মো. মোস্তফা কামাল (৩৮), মোজাম্মেল হক (৪৩) এবং হযরত আলী (২৯)।
ফুলবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান নাঈম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠানো হবে। এই অভিযানটি র্যাবের নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক নির্মূলে র্যাব নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জব্দকৃত গাঁজা এবং স্কাপের বাজারমূল্য এবং এর উৎস সম্পর্কে র্যাব আরও তদন্ত চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মাদক মামলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের থানায় হস্তান্তরের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধর্মপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল।
র্যাবের এই সফল অভিযানের ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কিছুটা হলেও কমবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মামলার নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভাঙার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মাদক চক্রের মূল হোতা বা এর সাথে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের এই ঘটনাটি কুড়িগ্রাম জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। র্যাব-১৩, রংপুর তাদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। আইন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতারকৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুড়িগ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকৃত ১৬ বোতল স্কাপ একটি নেশাজাতীয় পানীয় হিসেবে পরিচিত, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কুড়িগ্রাম জেলা আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
