কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার ব্যানারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিনিয়োগের নামে প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম ভিশন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে টাকা সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, শুরুতে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৬ নভেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা টাকা উদ্ধারের জন্য জেলা জামায়াতের আমিরের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
ভোগডাঙ্গা এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক মোহফুজুল হক জানান, ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম ও শাহজালাল সবুজের উপস্থিতিতে তিনি সাড়ে ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তাকে জানানো হয়েছিল যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ থেকে লাভ আসবে এবং লাখে এক হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি মুনাফা পেলেও এরপর প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পান।
চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম জানান, সুদমুক্ত হালাল ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং নিজের জমানো টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। দুই বছর ধরে তিনি কোনো মুনাফা পাননি এবং মূল টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। অভিযুক্তদের মধ্যে শাহজালাল সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে ভিশন এন্টারপ্রাইজ মূলত রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, চারজন পরিচালক চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন এবং আরও দুজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার দাবি অনুযায়ী, ছয়জন পরিচালকই এই ব্যবসা থেকে সুবিধা গ্রহণ করেছেন। কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, দলীয় তদন্তে রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অন্য দুজনের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের পাশে থাকার এবং ন্যায়সংগত ও আইনসংগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির। ভুক্তভোগীরা এখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের অনেকের অবস্থান অস্পষ্ট থাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা উদ্ধারের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
