কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এবং বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুটি অভিযানে এই সার জব্দ করা হয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মো. বেলাল মিয়া ও মো. মানিক উদ্দিনের বাড়ি থেকে মোট ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়। এসব সার বাড়ির গোয়ালঘর, ধান রাখার ঘর এবং খড়ের মাচায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার করা সারের মধ্যে ৪২ বস্তায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।
এই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বেলাল মিয়া ও মানিক উদ্দিনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিম উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের তীব্র সংকট থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে সার মজুত করছেন।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন জানান, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারেন, সেজন্য বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, একই রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোপা আমন মৌসুমের জন্য বরাদ্দ করা ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে নসরতপুর বাজারের দুটি পৃথক গুদামে মজুত করা হয়েছিল। মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহা নামের দুই ডিলারের নামে বরাদ্দ করা এসব সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে গুদাম দুটি ঘেরাও করলে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযানে সার মজুতের সত্যতা পাওয়ার পর ডিলার সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া জব্দ করা ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সারসহ গুদাম দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সজল ইসলামসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচিত হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সার ডিলারদের নিয়মিত তদারকি করা হলে বাজারে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার কিনতে পারবেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে যাতে রোপা আমন মৌসুমে কৃষকদের সারের কোনো সংকট না হয়। উদ্ধার করা সারের পরবর্তী বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কৃষি বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
