কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট চার লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ।
অভিযানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম তারেক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। অভিযানে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স খোকন ব্রিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খোকনের দুটি ঘরে অবৈধভাবে মজুত রাখা ১৬ বস্তা ইউরিয়া এবং ৭ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়।
এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই ইউনিয়নের কুড়ারপাড় বাজারে অবস্থিত মেসার্স রফিক ট্রেডার্স নামের আরেকটি সার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই দোকানের মালিক রফিকুল ইসলামের কাছে ৯ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়, যা অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সার মজুত করে আসছে। এর ফলে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অভিযানে জব্দ করা সারগুলো পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ জানিয়েছেন, অবৈধভাবে সার মজুত করা হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং কালোবাজারি রোধ করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
আইন অমান্য করে যারা সার মজুত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জব্দকৃত সার কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযানের ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষকদের দাবি, সার ব্যবসায়ীরা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে মজুতদারি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
প্রশাসন জানিয়েছে, সার বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে তারা বদ্ধপরিকর। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন যাতে কোনো ব্যবসায়ী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
