কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চিলমারী নদীবন্দর থেকে ‘কদম’ নামের সর্বশেষ সচল ফেরিটি নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর ফলে এই নৌপথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও যানবাহন চালকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মাহবুব আলম তায়েফ ফেরিটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দিয়ে এই রুটে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ নামের আরও একটি ফেরি এই রুটে যুক্ত করা হয়।
তবে ফেরিটির ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ২৯ অক্টোবর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘কদম’ ফেরিটি এই রুটে যুক্ত করা হয়। তখন ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘কদম’—এই দুটি ফেরি দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। গত ১৪ জুলাই মেরামতের প্রয়োজনে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর থেকে ৫১ দিন ধরে একমাত্র ‘কদম’ ফেরি দিয়েই এই নৌপথে যানবাহন পারাপার চলছিল। এখন সেই ফেরিটিও মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়ায় নৌপথটি সম্পূর্ণ ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তিনটি ফেরি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে একটি ফেরিও অবশিষ্ট নেই। একটি ফেরি মেরামতে পাঠানোর আগে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না রাখায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, ফেরি মেরামতে পাঠানো হলে বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা থাকা জরুরি ছিল। ফেরি না থাকায় চিলমারী ও রৌমারীর মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাইদুর রহমান নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে এমনিতেই নানা সমস্যা হচ্ছিল।
তার ওপর একের পর এক ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প ফেরি না দিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। চিলমারী ঘাটে আটকে পড়া ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, ফেরি না থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়, যা পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহকারী প্রকৌশলী আতিক সোহেল আকাশ জানান, ‘কদম’ ফেরিটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হলে ফেরিটি পুনরায় এই নৌপথে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ফেরিটি কবে নাগাদ আবার চলাচল শুরু করতে পারবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। এই নৌপথটি কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রৌমারী অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরিটি দ্রুত মেরামত করে পুনরায় এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
