কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চলের শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৯৮৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। বিতরণ করা শিক্ষা উপকরণের মধ্যে ছিল স্কুলব্যাগ, খাতা, কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্স, স্কেল ও রাবার।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তিনি তার বক্তব্যে চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিকূলতা নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরাঞ্চলের শিশুরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক সংকট এবং ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগ তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াবে এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা উপকরণ পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করেছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম ও মরিয়ম জানায়, নতুন স্কুলব্যাগ, খাতা ও কলম পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা এবং প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাইরুনও নতুন শিক্ষা উপকরণ পেয়ে নিজেদের আনন্দ ব্যক্ত করেছে। চরাঞ্চলের শিশুদের জন্য এই সহায়তা তাদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সহজতর করবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আখের। এছাড়া নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি এবং যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
কুড়িগ্রামের মতো দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় মূলধারার শিক্ষা সুবিধা থেকে পিছিয়ে থাকে। এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৯৮৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগটি চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং তাদের ঝরে পড়া রোধে এই ধরনের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য সহায়ক হবে।
পুরো অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষার্থীরা নতুন উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
