কুষ্টিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭২৫ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করেছে। শুক্রবার বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযানগুলো চালানো হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শেওড়াতলায় বিজিবির একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে ৪৮ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ এবং চার হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা।
একই দিন রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আকন্দপাড়ায় বিজিবির আরেকটি দল অভিযান চালায়। এই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৯০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, এক হাজার পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৩৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। বিজিবির ভাষ্যমতে, এই মালামালগুলোর আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ ১৯ হাজার ৫২৫ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অবৈধ পারাপারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামালগুলো আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির এই ধরনের তৎপরতা স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই অবৈধ পণ্য বা মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির এই অভিযানগুলো চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজিবির নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে সীমান্তে চোরাচালানের প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজিবি তাদের এই বিশেষ অভিযানগুলো নিয়মিত বিরতিতে পরিচালনা করে থাকে যাতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সংঘটিত হতে না পারে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত অপরাধ দমনে বদ্ধপরিকর এবং তারা নিয়মিতভাবে তাদের টহল কার্যক্রম জোরদার রেখেছে।
উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ এই মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামালগুলো সীমান্তে চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার প্রমাণ দেয়। বিজিবি এই চক্রগুলোকে চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিজিবি তাদের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
