কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় হেলিকপ্টার থেকে নামা এক ব্যক্তিকে ফুল দিয়ে বরণ করেছেন খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন। রোববার দুপুরে খোকসা জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টার থেকে নামা ওই ব্যক্তির নাম নাসির উদ্দিন শেখ।
তিনি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এবং খোকসা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর রুমীপাড়ার বাসিন্দা। নাসির উদ্দিন সিঙ্গাপুর থেকে বিমানে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হেলিকপ্টার ভাড়া করে গ্রামের বাড়িতে আসেন। হেলিকপ্টারটি দুপুর ১২টার দিকে খোকসা জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবতরণ করে। নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আরও দুই ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শতাধিক মানুষ মাঠের চারপাশে ভিড় করেন এবং অনেকে মোবাইল ফোনে এই দৃশ্য ধারণ করেন। নাসির উদ্দিনের ভাই রবিন রায়হান খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, নাসির উদ্দিন একজন আদম ব্যবসায়ী এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের এ ধরনের ব্যক্তিকে ফুল দিয়ে বরণ করা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। এই ঘটনার বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন ফুল দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা সেখানে কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, তারা কাউকে ফুল দেননি এবং যারা ওই ব্যক্তির লোক, তারাই ফুল দিয়েছেন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী রবিন রায়হান দাবি করেছেন যে, বাড়িতে একটি দোয়া অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁর ভাই ও কয়েকজন বিদেশি অতিথি এসেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ওসি কাউকে ফুল দেননি, বরং ফুল কাদায় পড়ে যাচ্ছিল বলে পুলিশ সদস্যরা তা ধরাধরি করে তুলে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন যে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত করা হবে।
তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হেলিকপ্টার অবতরণ ও পুলিশের উপস্থিতিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ব পালন নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ভাইয়ের ক্ষেত্রে পুলিশের এমন আচরণকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
