কুষ্টিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযানগুলো চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় মদ এবং সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত এসব মাদকের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা।
৪৭ বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রামকৃষ্ণপুর বিওপির একটি টহল দল নিচপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় মদ এবং ১ হাজার ৫০০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর মাঠ এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির টহল দল। সেখান থেকে আরও ১০ বোতল মদ এবং ১ হাজার পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে দুটি অভিযানে মোট ৮৫ বোতল মদ এবং ২ হাজার ৫০০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য চোরাচালান রোধে বিজিবি সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই মাদক বা অবৈধ পণ্য প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যগুলো আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান ও মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি নিয়মিত টহলের মাধ্যমে এসব অপতৎপরতা রোধে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরনের নিয়মিত অভিযান স্থানীয় পর্যায়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম চলমান থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা পেলে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হবে বলে বিজিবি মনে করে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং এর বাজারমূল্য বিবেচনায় এটি একটি বড় ধরনের সফল অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা এসব মাদকের বিস্তার রোধে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
