কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে এক যুবককে বিদেশি অস্ত্র ও ককটেলসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগরের বেলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক ওই যুবকের নাম রকি হোসেন, তার বয়স ২২ বছর এবং তিনি ওই এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজনগর এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শনিবার রাতে মাদকবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল organizes করে। এই মিছিলের পর রাতে সিরাজনগরের একটি বাঁশবাগানে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছে এমন খবর স্থানীয়দের কাছে পৌঁছায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই বাঁশবাগানে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে রকি হোসেন আরও ১০ থেকে ১২ জন সহযোগীর সাথে মিলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এরপর স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে বাকি সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রকি হোসেনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
এই আটকের সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তিনি আহত হন।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ আহত রকিকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করে। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রামদা এবং একটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এরই মধ্যে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, মাদকবিরোধী আন্দোলনের সময় এই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। তিনি জানান, গণপিটুনির কারণে ওই যুবক আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে জব্দকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো নিয়ে তদন্ত করছে এবং রকির সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের এলাকায় মাদক মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
