কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাটে পদ্মা নদীর তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। শরতের শুরুতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীতে নতুন পানি আসায় শুকিয়ে যাওয়া বালুচরগুলো তলিয়ে গেছে এবং নদীজুড়ে রুপালি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ৪ আগস্ট বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী এলাকাটি একটি বিনোদন কেন্দ্রের মতো রূপ নিয়েছে।
বিকেলের সময়টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং আশপাশের অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ নদীর পাড়ে আসতে শুরু করেন। তারা মূলত সূর্যাস্তের সময় নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং লালচে আকাশের দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন। এই নতুন পানির কারণে দীর্ঘদিন পর নৌকা চলাচল পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং ঘাটে মাঝিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানো। তরুণরা দল বেঁধে নৌকায় আনন্দ-উল্লাস করছেন এবং অনেকে নদীর শান্ত ঢেউয়ের দোলায় প্রশান্তি খুঁজছেন।
নদীতে পানি বাড়ার ফলে স্থানীয় জেলেদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। তারা নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরছেন এবং বিভিন্ন ঘাটে অস্থায়ী মাছের বাজার গড়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা নদী থেকে সরাসরি ধরে আনা তাজা মাছ কেনার জন্য এই বাজারগুলোতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই অস্থায়ী মাছের হাটে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি ও আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে।
দর্শনার্থী শাহিন হোসেন জানান, তিনি ঘুরতে এসে নদী থেকে ধরা টাটকা মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারেননি, তাই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
নদীর বাঁধ এবং তীর ঘেঁষে অস্থায়ী গ্রামীণ বাজারও গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে গরম জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, পেঁয়াজু, মরিচ ও বেগুন ভর্তা দিয়ে হাতের রুটি এবং হালিম বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জন্য খেলনা, বেলুন এবং বাঁশির দোকান দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোর আলো এবং মানুষের কোলাহলে নদীপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
সরকারি চাকরিজীবী জাহিদ হোসেন জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী উভয়েই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং কর্মব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় পাওয়া যায় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এখানে এসেছেন এবং এখানকার পরিবেশ তাদের ভালো লেগেছে। n
জেলে জামাল হোসেন জানান, বিকেলের দিকে নদীর পাড়ে মানুষের সমাগম বেশি হয় এবং বিশেষ করে শুক্রবারে আরও বেশি মানুষ আসেন। তিনি বলেন, যে কারণে নৌকায় ঘোরাঘুরি এবং মাছের বেচাকেনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জেলেদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের মতে, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
তবে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো পরিবেশ বদলে যায়। নদীর পাড়ে মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়, এবং নৌকা চলাচল, মাছ ধরা এবং মাছের কেনা-বেচা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মাঝি, মাঝি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরে আসে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়াও শুক্র ও শনিবার সপ্তাহে এই দুইদিন নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন।
