কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকা থেকে ১২ টন চিনি জব্দ করে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে চিনির মালিকসহ চারজন রয়েছেন। তাদের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তবে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তার মতে, ট্রাকের নিচ দিয়ে চিনি গলে গলে রাস্তায় পড়ছিল, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকটিকে আটকে পুলিশের কাছে খবর জানান।
এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিনিভর্তি ট্রাকটি এবং সাথে থাকা চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওই ট্রাকে মোট ১২ টন চিনি ছিল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের মতে, এই চিনিগুলো সম্ভবত চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার খাজানগরের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।
পুলিশের কাছে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, আগের দিন শুক্রবার রাতে আরও দুটি ট্রাক চিনি খাজানগরে প্রবেশ করেছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, পুলিশ বর্তমানে ওই ট্রাকগুলো উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছে। মোট তিনটি ট্রাকের চিনি কেন এবং কার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাজধানী এন্টারপ্রাইজের সামনে ট্রাকটি থামানো হয়েছিল এবং সেখানেই চিনিগুলো নামানোর প্রস্তুতি চলছিল। তারা জানান, চিনিগুলো গলে গলে রাস্তায় পড়ছিল, যা দেখে স্থানীয়দের অনেকেই হাড়ি-গামলা নিয়ে এসে রাস্তা থেকে গলে পড়া চিনি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন। এই পরিস্থিতির পর তারা পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ এসে ট্রাকটি ও চারজনকে আটক করে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলা তার পক্ষ থেকে অস্বীকার করেছেন রাজধানী এন্টারপ্রাইজের মালিক মুস্তাফিজুর রহমান বাবু। তিনি জানান, চিনিগুলো তার মিলের পাশে কামাল নামে একজনের গোডাউনে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। তিনি এই ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পুলিশ বর্তমানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চিনির উৎস এবং এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। পুলিশ বর্তমানে এই চিনিগুলো জব্দজব্দ করে থানায়তে নিয়ে এসেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
