রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় শিক্ষা ছুটির নামে অবৈধভাবে বেতন উত্তোলনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওই কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিকে অবৈধ ঘোষণা করে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
গত ৩০ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ এবং উপপরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। এর আগে গত ১৯ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কলেজটি পরিদর্শন করে অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু কারাগারে থাকা অবস্থায় শিক্ষা ছুটির নামে যে বেতন উত্তোলন করেছেন, তা বিধি বহির্ভূত।
রেগুলেশনের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী, গভর্নিং বডির লিখিত অনুমোদন এবং আট বছরের লিখিত চুক্তি ছাড়া শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করার সুযোগ নেই। এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্তি ও কারাবন্দি অবস্থায় বেতন উত্তোলন রেগুলেশনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, যা তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের যোগ্য করে তোলে।
প্রতিবেদনে প্রভাষকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিন আগে আবেদন করেছিলেন, যা রেগুলেশনের ১৫(ক)(৪) অনুচ্ছেদের বাধ্যতামূলক তিন মাসের সময়সীমা ভঙ্গ করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী সময়ে তার মেয়াদ বৃদ্ধি অনুমোদন করলেও, চাকরিকালীন প্রমাণিত অনিয়মের কারণে এই বর্ধিত মেয়াদ বাতিলযোগ্য বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মের দায়ে অধ্যক্ষকে অবিলম্বে চূড়ান্ত বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উপপরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার জানিয়েছেন, তদন্তে অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রভাষকের বেতন উত্তোলন উভয়ই অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। উল্লেখ্য, প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু চাকরি দেওয়ার নামে এবং হজে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রতারণার ঘটনায় নীলফামারী থানায় দুটি এবং রংপুরের আদালতে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৫ মে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাকে রংপুর মহানগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। প্রায় দুই মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে কারাগারে থাকাকালীন সময়েও কলেজ কর্তৃপক্ষ এমপিও শিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রেখে মে, জুন ও জুলাই মাসের বেতন প্রদান করে।
যদিও হাজিরা খাতায় ১০ মে থেকে তার নামের পাশে শিক্ষা ছুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তোলপাড় শুরু হয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
