মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ ন্যায়, কল্যাণ ও সুন্দরের পক্ষে অবস্থান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজের ভালো মানুষগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে পারে, তবে কোনো অন্যায় বা অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সমাজে কিছু অসাধু ও দুষ্কৃতিকারী মানুষ সব সময়ই সক্রিয় থাকে, কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সমাজে অপশক্তির মাথাচাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ।
হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান অংশীদার। দেশকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়, অবিচার কিংবা অশুভ শক্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। সব ধর্মের মূল শিক্ষা হলো মানবকল্যাণ, ন্যায়, সৌন্দর্য, সহমর্মিতা ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এই দেশ সবার এবং এখানে যারা বসবাস করেন, তারা সবাই দেশের সমান অংশীদার। তাই দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার ওপর বর্তায়। মন্ত্রী আরও বলেন, পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন।
আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ থাকলে দেশ ও জাতির কল্যাণ ত্বরান্বিত হবে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার।
অনুষ্ঠানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব শ্রী দিলীপ নাগ কানাই, যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী সুব্রত চৌধুরী তপু ও শ্রী সঞ্জিত দেবনাথসহ কুমিল্লার সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আলোচনার পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন।
সামগ্রিকভাবে, এই আয়োজনটি কুমিল্লায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। অনুষ্ঠানের বক্তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। কৃষিমন্ত্রীর এই বক্তব্য কুমিল্লার সনাতনী সমাজের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
