কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার থেকে ময়নামতি বাজার পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সড়কটি সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সড়কটি এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের শিকারপুর গ্রামের মাঝের এক কিলোমিটার অংশ আগে কোনো সড়ক ছিল না, সেখানে ছিল ধান খেতের আইল। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এছাড়া সড়কের বাকি অংশগুলোও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সারোয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে সাত কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এক কিলোমিটার বিটুমিন ঢালাই করা হয়েছে এবং বাকি পাঁচ কিলোমিটারে মাটি ভরাট ও ইটের খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়কটি বিটুমিন ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা গোলাম সারোয়ার। সড়কটি নির্মাণের ফলে নিমসার, শিকারপুর, আবিদপুর, বারাইলগজারিয়া, লোদন, বিন্দিয়ারচর, নামতলা, বাদিয়াপাড়া, আকাবপুর, জিয়াপুর ও বারিকোটাসহ মোট ১৫টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ ফুট চওড়া এই সড়কটির দুই পাশে সবুজ ফসলের মাঠ রয়েছে এবং সড়কের পাশে সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ, সানা উল্লাহ, মো. সেলিম ও রাশেদ মিয়া জানান, আট মাস আগেও এই সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সড়কটি সংস্কার করায় এখন গাড়ি চলাচলসহ মানুষের হাঁটাচলা সহজ হয়েছে।
এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছেন এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে। সড়কটির উদ্যোক্তা গোলাম সারোয়ার জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই পথে মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখে আসছেন। বিশেষ করে ধান খেতের আইল দিয়ে যাতায়াতের সময় মানুষের কষ্ট তাকে ব্যথিত করত।
সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়কটি পাকা করার কাজ সম্পন্ন হবে। শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কুমিল্লা বিসিকের ডিজিএম মুনতাসীর মামুন জানান, গোলাম সারোয়ারের বাবা প্রয়াত জুনাব আলী একজন শিক্ষানুরাগী ও দানবীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বাবার আদর্শ অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার এই সামাজিক কাজটি করেছেন, যার ফলে বৃহত্তর এলাকার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সড়কটি নির্মাণের ফলে কেবল যাতায়াতই সহজ হয়নি, বরং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা এখন তাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারছেন, যা তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতায় অবদান রাখছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীরাও এখন নির্বিঘ্নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছে। সড়কটি সংস্কারের ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
