কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় চোর সন্দেহে আরিফ হোসেন নামের এক ট্রাক্টর চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরিফ হোসেন চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের হাড়িখোলা মাজার বাড়ির আলী মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের দেবিদ্বার উপজেলার কুরুইন গ্রামের এক ব্যক্তির সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরির ঘটনায় স্থানীয়রা সাকিল নামের একজনকে আটক করে। আটক সাকিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ৩১ আগস্ট রাতে আরিফ হোসেনকে তার নিজ এলাকা হাড়িখোলা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সোমবার রাতভর আরিফ হোসেনকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে পুনরায় হাড়িখোলা এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর কুরুইন গ্রামের লোকজন তাকে সেখান থেকে আবারও তুলে নিয়ে যায়। শারীরিক নির্যাতনের ফলে আরিফ হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা আলী মিয়া অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। কেরণখাল ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য শামীম হোসেন জানান, আরিফ হোসেন যদি অটোরিকশা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তবে বিষয়টি তার অভিভাবক বা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো উচিত ছিল।
আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরিফ হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অটোরিকশা চুরির ঘটনার সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই সহিংসতা এবং পরবর্তীতে একজন ব্যক্তির মৃত্যু স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। আরিফ হোসেন পেশায় ট্রাক্টর চালক ছিলেন এবং তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে কুরুইন গ্রামের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং তদন্তের অগ্রগতি হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।
