রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বড় গ্রাম এলাকার একটি বাসা থেকে লাবনী আক্তার নামের ২০ বছর বয়সী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শনিবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত লাবনী আক্তারের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। ঘটনার দিন শনিবার রাতে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, পারিবারিক বিষয়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে লাবনী ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত লাবনী আক্তার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার বামনা গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর থানার বড় গ্রাম এলাকার একটি বাসায় তার তিন বছর বয়সী ছেলের সাথে বসবাস করছিলেন।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান এবং subsequent ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লাবনী আক্তারের মৃত্যুতে তার পরিবার এবং বিশেষ করে তার তিন বছর বয়সী সন্তানের ওপর এর প্রভাব গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। লাবনী আক্তার এবং তার স্বামীর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বা পারিবারিক কলহের কথা স্বজনদের ধারণা থাকলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস আরও উল্লেখ করেছেন যে, উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় লাবনী আক্তারকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে কোনো অস্বাভাবিকতা খুঁজে পায়নি তবে আইনি নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক।
লাবনী আক্তার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার বামনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বিয়ের পর তিনি কামরাঙ্গীরচরের বড় গ্রাম এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার তিন বছর বয়সী পুত্রসন্তান এখন তার পরিবারের সদস্যদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
