ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শরীয়তপুর থেকে উদ্ধার করেছে। এই অপহরণের ঘটনায় যুথী আক্তার নামের ২২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে এই উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেফতারির কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে শিশুটি খেলতে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন।
জিডির সূত্র ধরে কাফরুল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে। এই ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে জোরপূর্বক তাকে নিয়ে যাচ্ছেন। সিসিটিভি ফুটেজের এই প্রমাণ পাওয়ার পর শিশুটির মায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কাফরুল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত নারীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ যুথী আক্তার নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করে এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এরপর তাকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত যুথী আক্তারকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই পুরো ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে শনিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা পর্যন্ত পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং শরীয়তপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই অপহরণের পেছনে আরও কোনো কারণ বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন যে, এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা সতর্ক থাকে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা এখন তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তিনি জানান, শিশুটির উদ্ধার এবং নারীর গ্রেফতারির মাধ্যমে একটি জটিল মামলার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
