কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন কটিয়াদী সরকারি কলেজ এবং কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ইমরান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মূলত বর্ষা মৌসুমে এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ নিচু হওয়ার কারণে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এই জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষার্থীরা বছরের দীর্ঘ সময় খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। সংসদ সদস্য তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, প্রতি বছর বর্ষাকালে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস মাঠগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
মাঠের নিচু অবস্থানের কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা সেখানে নেই। এর ফলে মাঠগুলো দীর্ঘ সময় কাদাযুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পরিস্থিতির কারণে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। মশার বংশবিস্তারের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কটিয়াদী সরকারি কলেজ ও কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দুটি এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত তাদের শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা থেকে দূরে থাকছে। এই সংকট নিরসনে সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেন বা নর্দমা নির্মাণ এবং মাঠের চারপাশে শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেন, দ্রুত এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শারীরিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মাঠের জলাবদ্ধতা দূর হলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় খেলাধুলায় ফিরতে পারবে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত হবে। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এখন মন্ত্রণালয় থেকে এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং কবে নাগাদ বরাদ্দ পাওয়া যায়, সেদিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকরা। মাঠের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে কটিয়াদী সরকারি কলেজ ও কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে।
এটি কেবল খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করবে না, বরং বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের আঙিনায় জমে থাকা পানি ও কাদা থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। সংসদ সদস্যের এই চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় অবকাঠামোর একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত সাড়া পাওয়া গেলে আগামী শুষ্ক মৌসুমেই এই নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
