কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ সরঞ্জামসহ চীনের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শহরের হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার আমলি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, রামু থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপ রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো কিছু বিশেষ সামগ্রীও জব্দ করেছে পুলিশ। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক জানান, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি দায়ের করেছে।
এই মামলায় ওই ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত অন্তত দুই মাস ধরে চীনা ও তাইওয়ানি কিছু নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাইবার সুরক্ষা আইনের অধীনে দায়ের করা এই মামলায় প্রতারণার ধরন এবং এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কক্সবাজারের মতো পর্যটন এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত বিপুল সংখ্যক আইফোন এবং ল্যাপটপগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হতো, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গ্রেপ্তারকৃত ছয় চীনা নাগরিকের পরিচয় এবং তাঁদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রামু থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁরা কোনো বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণা করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো বিশ্লেষণ করলে প্রতারণার পরিধি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
