কক্সবাজারের রামুতে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয়জন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান জানান, দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পর রামুর মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা শুরুতে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার দাবি করলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে। পরবর্তীতে চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত ছিল। তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি।
ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামুর মেরিন ড্রাইভের ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে গত কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে এগুলো ঠিক কীভাবে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, রামু থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি বিশেষ ইউনিট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান আরও বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইসগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
বর্তমানে গ্রেফতারকৃত ছয় চীনা নাগরিক কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
