ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বনানী থানা-পুলিশ ও র্যাব-১ এর একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওই বাসের চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু এবং হেলপার মনির নামের তিন ব্যক্তি রয়েছেন।
এই অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী 'রাজ ক্লাসিক' নামের একটি বাস জব্দ করেছে।
র্যাব-১ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইসমাইল হোসেন জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। এই যাত্রার পথে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে। হত্যার পর তার মরদেহটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মরদেহের মুখ ও হাত-পায়ে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে র্যাব-১ এর একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বাসচালক সোহেল রানাকে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে মহাখালীর কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে অপর দুই সন্দেহভাজন আসামি সাজু ও মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত 'রাজ ক্লাসিক' বাসটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে পরবর্তীতে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে আগামীকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ হিসেবে টাকার লোভকে দেখা হচ্ছে। ইসমাইল হোসেন তার মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা সাথে নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। এই টাকাটি ছিনতাই করে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই এই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হয়েছে। তবে পুলিশ এবং র্যাব এখন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে বাকি সব তথ্য নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখ रहा। বনানী থানা পুলিশ এবং র্যাব-১ এর যৌথ প্রচেষ্টায় এই রহস্যময় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
