গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ ও সেবা গ্রহণের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের জন্য অর্থ বিভাগের কাছ থেকে পুনরায় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না, যদি আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল কমিটির সুপারিশ থাকে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট-৫ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা ২০২৫-এর আওতায় সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের বাজেট-৫ শাখার যুগ্মসচিব মো. তারিকুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এই স্মারকে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২২ জানুয়ারি ২০০৩ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল কমিটির সুপারিশ থাকলে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নতুন জনবল নিয়োগের জন্য অর্থ বিভাগের আলাদা অনুমোদনের আর কোনো প্রয়োজন নেই।
নতুন জনবল নিয়োগ এবং নিয়োজিত আউটসোর্সিং সেবা নবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মূল মেয়াদ এবং বর্ধিত মেয়াদ বিবেচনা করে আউটসোর্সিং সেবা ক্রয়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে। অর্থাৎ আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল কমিটি যে আউটসোর্সিং সেবা ক্রয়ের অনুমোদন বা সুপারিশ করবে, তা প্রকল্পের পুরো সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।
এর মধ্যে প্রকল্পের মূল মেয়াদের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত বর্ধিত মেয়াদও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রকল্পের মেয়াদ চলাকালীন বারবার অনুমোদনের জন্য ফাইল চালাচালি বা প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির সুপারিশের প্রয়োজনীয়তাও বাতিল করা হয়েছে।
নীতিমালার তপশিল ক-তে উল্লিখিত এই কমিটির সুপারিশ ছাড়াই এখন থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আউটসোর্সিং সেবা ক্রয় বা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এই স্মারকটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগ আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা ২০২৫ জারি করেছিল। সেই নীতিমালার আলোকে এখন এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হলো। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জনবল নিয়োগের এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ জনবল সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে আউটসোর্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারি দপ্তরের নিয়মিত জনবল কাঠামোর বাইরে বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে প্রকল্প পরিচালকরা প্রকল্পের মেয়াদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আউটসোর্সিং সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন। এতে প্রকল্পের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় কাজ আটকে থাকার সম্ভাবনা কমবে।
অর্থ বিভাগের এই নতুন স্পষ্টীকরণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে সরকারি দপ্তরে কাজের গতি বাড়বে এবং প্রকল্পের ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আউটসোর্সিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই প্রক্রিয়াটি সরকারি ক্রয় ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।
