ইসলামি শরিয়তে অমুসলিমদের সম্ভাষণ বা সালাম জানানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা পূর্ণাঙ্গ সালাম কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত। নবীজি (সা. ) মুসলমানদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একে অপরকে বেশি বেশি সালাম দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের ২০৩ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীজি (সা.
) বলেছেন যে পারস্পরিক ভালোবাসা ছাড়া মুমিন হওয়া সম্ভব নয় এবং সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে এই সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে, অমুসলিমদের সাধারণ নিয়মে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, অমুসলিমদের আগে সালাম না দেওয়ার জন্য নবীজি (সা. ) নির্দেশ দিয়েছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, যদি কোনো অমুসলিম ব্যক্তি মুসলমানকে সালাম দেয়, তবে তার উত্তরে শুধু ‘ওয়া আলাইকুম’ বলতে হবে।
এর অর্থ হলো, ‘তোমার প্রতিও তাই হোক যা তুমি বলেছ’। অমুসলিমদের দেওয়া সালামের উত্তরে পূর্ণ সালাম প্রদান করা যাবে না বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। অমুসলিমদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তে বিকল্প কিছু পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। কোনো অমুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে বাংলা ভাষায় ‘শুভ সকাল’, ‘শুভ দুপুর’ বা ‘শুভ সন্ধ্যা’র মতো সাধারণ সম্ভাষণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়া ‘আদাব’ শব্দটিও সম্ভাষণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব শব্দ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে এগুলো ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অমুসলিমদের সঙ্গে সম্ভাষণের ক্ষেত্রে ‘আস-সালামু আলা মানিত-তাবাআলা হুদা’ বাক্যটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর অর্থ হলো, ‘যারা হেদায়াত বা সৎ পথ অনুসরণ করে তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’।
পবিত্র কোরআনের সুরা ত্বা-হার ৪৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এই বাক্যটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া নবীজি (সা. ) বিভিন্ন অমুসলিম বাদশাহদের কাছে পাঠানো চিঠিতেও এই সম্ভাষণটি ব্যবহার করেছিলেন। অমুসলিমদের ধর্মীয় রীতি বা আচার অনুযায়ী সম্ভাষণ জানানোর বিষয়েও ইসলামি ফতোয়ায় নির্দেশনা রয়েছে।
কোনো অমুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ‘নমস্কার’ বা ‘নমস্তে’ বলা যাবে না বলে ফতোয়ায়ে রহিমিয়ার ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। ইসলামি শরিয়তের এই নিয়মগুলো অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৌজন্য বজায় রাখা এবং একইসঙ্গে ধর্মীয় স্বকীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য বাঞ্ছনীয়। অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ এবং সুন্দর ব্যবহারের পাশাপাশি ধর্মীয় বিধানের এই সীমারেখা বজায় রাখাই ইসলামি শরিয়তের মূল লক্ষ্য। এই নিয়মগুলো মূলত পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে অমুসলিমদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
