ইসলামের বিধিবিধান পালন করতে গিয়ে মানুষের জীবন কঠিন হয়ে যায় কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি এক দ্বীনি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে একজন ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে জানতে চান, দ্বীনের পথে আসার পর গান-বাদ্যযন্ত্র, সিনেমা, নাটক, সুদভিত্তিক ব্যাংকিং, ঘুষ এবং প্রেম-ভালোবাসার মতো বিষয়গুলোতে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা পালন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রশ্নকারী জানতে চান, আল্লাহ কি একজন মুমিনকে এত বেশি পরীক্ষা ও বিধিনিষেধের মধ্যে ফেলে জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন, নাকি এর পেছনে কোনো বিশেষ প্রজ্ঞা রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে ভালোবাসেন এবং তাদের যেকোনো ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্যই এই বিধিনিষেধগুলো নির্ধারণ করেছেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর বিধান মানলে বা না মানলে আল্লাহর কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না। মানুষের জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর, তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বিষয়টি বোঝাতে একটি উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, দেড় বা দুই বছর বয়সী একটি শিশু যখন ধারালো ছুরি, জ্বলন্ত আগুন বা গভীর পানির দিকে যেতে চায়, তখন বাবা-মা তাকে বাধা দেন।
শিশুটি তখন কান্নাকাটি করে এবং মনে করে তার বাবা-মা পাষাণ হৃদয়ের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে বাবা-মা সন্তানের ক্ষতি হবে বলেই তাকে বাধা দেন। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের প্রতি বাবা-মায়ের চেয়েও অনেক বেশি দয়ালু। তিনি জানেন কোন পথে চললে মানুষের বিনাশ অনিবার্য, তাই তিনি আগে থেকেই সতর্ক করেছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, মানুষ যখন ভুল পথে পা বাড়ায়, তখন তার পরিণতি কী হয় তা সবার চোখের সামনেই রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি মাদকের কথা উল্লেখ করেন। মানুষ সাময়িক সুখের আশায় মাদকের দিকে ঝুঁকলেও শেষ পর্যন্ত তা পুরো জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। তাই তিনি বলেন, হারামে কোনো আরাম নেই।
বাহ্যিকভাবে কিছু বিষয়কে আরামদায়ক মনে হলেও চূড়ান্ত বিচারে তা বড় ধরনের কষ্ট ও ব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কারো মনে যদি আল্লাহর বিধিনিষেধ নিয়ে সংশয় বা প্রশ্ন জাগে, তবে তার উচিত আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করা। তিনি বলেন, দ্বীনে ফেরার পরও যদি কারো মধ্যে হারাম বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ থেকে যায়, তবে বুঝতে হবে তিনি দ্বীনকে এখনো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেননি।
দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কোনো হারাম বিষয় আর মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, মানুষ যে হারাম সম্পর্ক বা হারাম আনন্দগুলো ত্যাগ করছে, তা মূলত জান্নাতের চিরন্তন শান্তির আশায়। এই অনুভূতি মানুষকে মানসিকভাবে সুখী করে এবং অন্তরের কষ্ট দূর করতে সহায়তা করে। দুনিয়ার এই সাময়িক ও সীমিত সময়ের ভোগ-উপভোগ ত্যাগ করে অনন্তকালের সুখের আশা করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
পরিশেষে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ ও নিষেধ মানুষের মঙ্গলের জন্যই দেওয়া হয়েছে। তাই এই বিধিনিষেধগুলোকে জুলুম মনে না করে বরং আল্লাহর প্রজ্ঞা ও হিকমত হিসেবে গ্রহণ করাই শ্রেয়। তিনি সবার জন্য দ্বীনের ও ইবাদতের স্বাদ আস্বাদন করার তৌফিক কামনা করেন। এই আলোচনাটি শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।
