সাভারের আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ ঘর থেকে এক নারী, এক পুরুষ এবং এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, নিহতরা স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সঙ্গে থাকা শিশুটি তাদের সন্তান।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই কক্ষের দরজা ও জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তারা বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। গত শুক্রবার রাতে ওই কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তিনটি মরদেহ দেখতে পায়। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এই আলামত দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘটনার পর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কক্ষের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছেন, যা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করবে বলে পুলিশ আশা করছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় এবং তাদের বিস্তারিত ঠিকানা শনাক্ত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাসাটি ভাড়া নিলেও তাদের প্রকৃত পরিচয় বা পূর্বের কোনো তথ্য স্থানীয়দের কাছে নেই। পুলিশ এখন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
বর্তমানে ওই এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই দম্পতি খুব একটা মানুষের সাথে মিশতেন না এবং তাদের চলাফেরা ছিল রহস্যময়। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সময়কাল ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।
