বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুই জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ।
বর্তমানে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী টিপু হাওলাদার আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কবির মোল্লা একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদানকারী সেলিনা বেগম জানান, টিপু হাওলাদার তার ভাগ্নি জামাই ছিলেন এবং তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে সেলিনা বেগমের বাসায় টিপু অবস্থান করছিলেন।
সেই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল লোক টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেলিনা বেগম জানান, তিনি এবং তার প্রতিবেশী সামছুন নাহার বেগম টিপুকে গাড়িতে তোলার সময় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ছিলেন। সেই সময় আগত ব্যক্তিরা নিজেদের বরিশাল থেকে আসা ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ঘটনার দুই দিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের সংবাদে সেলিনা বেগম টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা নামে দুই ব্যক্তির ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার খবর দেখতে পান।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টিপুর শ্বশুরকে ফোন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। অপর সাক্ষী সামছুন নাহার বেগম তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সেলিনা বেগমের চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং টিপুকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেন। তিনি জানান, টিপুকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের আগৈলঝাড়া থানা থেকে আসা ডিবি পুলিশ বলে দাবি করেছিল।
সামছুন নাহার বেগম আরও জানান, ঘটনার পর তিনি মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি থানায় টিপুর সন্ধানে খোঁজ নিয়েছিলেন। তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে শুনেছেন যে, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও শুনেছেন যে, উজিরপুর থেকে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
