বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধার জন্য আবেদন করার পরও এখনো ভাতার টাকা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে যে অবসর সুবিধা ভাতা বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেই তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যারা এখনো টাকা পাননি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র বোর্ডের ঢাকার কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের তাদের আবেদনের রিসিট কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই নথিপত্রগুলো ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে বোর্ডের কাছে পাঠাতে হবে। ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বোর্ডের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা ই-মেইল ঠিকানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
স্কুল শাখার জন্য school. terbb@gmail. com, কলেজ ও কারিগরি শাখার জন্য college. terbb@gmail. com এবং মাদরাসা শাখার জন্য madrasha. terbb@gmail. com ঠিকানায় নথিপত্র পাঠাতে হবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর সশরীরে ঢাকার কার্যালয়ে আসার প্রয়োজন নেই।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে দালাল বা প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবসর সুবিধা বোর্ডের ভাষ্যমতে, নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আইবাস ডাবল প্লাস অথবা ইএফটি বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাওনা টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ অবসর সুবিধা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ৭০ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষক চার বছর পর তাদের অবসর সুবিধার টাকা পেয়েছিলেন।
অবসর সুবিধা বোর্ড তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে যে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো প্রকার হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতেই এই ডিজিটাল ও ডাকযোগের পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। যারা এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি, তাদের দ্রুত এই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য বোর্ডের কাছে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নির্দেশনাটি দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য প্রদান করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে বলে বোর্ড নিশ্চিত করেছে।
