মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই দাবির প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, এখন এটির নাম বদলে ট্রাম্প প্রণালি রাখা উচিত কি না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প বারবার এটি বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে ইরান যুদ্ধ তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ধরনের প্রচারণার অংশ হিসেবেই তিনি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই যুদ্ধ ইতিমধ্যে সাত মাস অতিক্রম করেছে।
এরপরেও ট্রাম্প বারবার যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করে আসছেন। গত মঙ্গলবার ইরানে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হন এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে খোলা রয়েছে এবং এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। তবে এই দাবির পরেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেনি। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে যে প্রণালিটি এখনো বন্ধ এবং সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সৌদি আরব অভিযোগ করেছে যে হরমুজ প্রণালিতে তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবর দিচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে। উল্লেখ্য, গত মাসে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা বলে দাবি করেছিলেন। এছাড়া গত সপ্তাহে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের সময় তিনি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে অবস্থিত লেক অন্টারিওর নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাবকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
