যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিন পাইলটসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত পাইলটদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মোজতবা বাঘেরি, হামেদ ওকাতি এবং হোসেনই মাহদাভিয়ান। এদের মধ্যে মোজতবা বাঘেরি ও হামেদ ওকাতি নৌবাহিনীর পাইলট ছিলেন এবং হোসেনই মাহদাভিয়ান বিমানবাহিনীর পাইলট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তবে এই পাইলটরা ঠিক কোন স্থানে এবং কী পরিস্থিতিতে হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তারা হামলার সময় কোনো যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছিলেন কি না বা কোনো বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান।
পাইলটদের মৃত্যুর পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর আরও ছয় সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এবং ২ সেপ্টেম্বর বুধবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বোমাবর্ষণের ফলে অন্তত ১৯ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলার ঘটনাগুলো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন এবং কেরমানশাহ প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া উপসাগরের লাভান দ্বীপে আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য এবং ফার্স প্রদেশে আরও একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরেও ইরানি কর্মকর্তারা একটি অনুষ্ঠানে হামলার ফলে আরও চারজনের মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।
সামগ্রিকভাবে এই ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হতাহতের ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রদেশে এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
খুজেস্তান, কেরমানশাহ, ফার্স প্রদেশ এবং লাভান দ্বীপের মতো বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানে একই সময়ে বা কাছাকাছি সময়ে হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে। নিহতদের পরিচয় এবং তাদের সামরিক পদমর্যাদা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যে এই হতাহতের সংখ্যা ১৯ জন উল্লেখ করা হলেও, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না তা নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করছে এবং এর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ বা গুরুত্বপূর্ণ পাইলটদের উপস্থিতি ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানজুড়ে এই হামলার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই হামলার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। পুরো বিষয়টি এখন ইরানের সামরিক নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তারা পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
