ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বি১/বি২ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ভিসা শুধুমাত্র অস্থায়ী ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য প্রযোজ্য এবং এর বাইরে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা আইনত নিষিদ্ধ। দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা এই ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয়।
একে বার্থ ট্যুরিজম হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভ্রমণ ভিসার শর্তাবলির পরিপন্থী। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভ্রমণ ভিসাধারীরা কোনো ধরনের চাকরির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ধরনের ডিগ্রি অর্জন বা অ্যাকাডেমিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করাও এই ভিসার শর্তের মধ্যে পড়ে না। অর্থাৎ, ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো ধরনের পারফরম্যান্স বা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করাও এই ভিসার অধীনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পর্যটন, অবকাশযাপন এবং চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের জন্য প্রদান করা হয়। এই ভিসা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই তার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে এবং ভিসার শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ভ্রমণ ভিসাধারীদের মনে রাখতে হবে যে, এই ভিসা কোনোভাবেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয় না এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে পড়াশোনার সুযোগ নেই। দূতাবাসের এই সতর্কবার্তাটি মূলত সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য যারা ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ভিসার একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে এবং সেই উদ্দেশ্যের বাইরে কোনো কাজ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক, তাদের উচিত ভ্রমণের আগে ভিসার শর্তাবলি ভালোভাবে জেনে নেওয়া। দূতাবাস জানিয়েছে যে, পর্যটন বা চিকিৎসার জন্য যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভিসা আবেদন করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এছাড়া ভবিষ্যতে পুনরায় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশনাটি ভ্রমণ ভিসার সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ভ্রমণকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে এই সতর্কবার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে যাতে তারা কোনো ধরনের আইনি জটিলতায় না পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা প্রতিটি ভ্রমণকারীর দায়িত্ব।
যদি কোনো ভ্রমণকারী ভিসার শর্তের বাইরে অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারে। তাই ভ্রমণ ভিসার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। দূতাবাস নিয়মিতভাবে এই ধরনের নির্দেশনা প্রদান করে থাকে যাতে ভ্রমণকারীরা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
বি১/বি২ ভিসার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করা বাঞ্ছনীয়।
